আন্তর্জাতিক

‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’: ট্রাম্পের দাবির মুখে ইউরোপীয় নেতারা

  নিউইয়র্ক টাইমস ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৮:০০ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

 

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় নেতারা এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। একদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পূর্ণমাত্রায় চালু করার জন্য তাঁদের কাছে সাহায্য চাইছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রতি চরম অনীহাও রয়েছে ইউরোপের নেতাদের মধ্যে।

সোমবার ইউরোপের বেশ কয়েকজন নেতা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিলেও ইউরোপীয় অনেক নেতা তাঁদের দেশের নৌবাহিনীকে বিপদের মুখে হরমুজ প্রণালিতে পাঠাতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, তেল, গ্যাস ও সারবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় দেশগুলো যোগ না দিলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে। এর আগে শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, হরমুজ বন্ধ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো দ্রুতই সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে

 

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন ঠিক উল্টো কথা। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস সোমবার বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এটি শুরু করিনি।’ তিনি বলেন, জার্মানি কূটনৈতিক সমাধান চায়। আর ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। তবে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা রক্ষণাত্মক অবস্থায় থাকবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর দেশ ইরানের সঙ্গে ‘বিস্তৃত এই যুদ্ধে জড়াবে না।’ ট্রাম্পের মন্তব্য সরাসরি উল্লেখ না করে স্টারমার বলেন, ‘আমার নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ স্বার্থে অটল থাকা, যত চাপই আসুক না কেন।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে সম্মিলিতভাবে কী করা যায়, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা ইউরোপীয় অংশীদারসহ সব মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছেন।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ এখন বাস্তব। জ্বালানির দাম ইতিমধ্যেই আকাশচুম্বী, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের স্মৃতিও কাজ করছে। বিশ্বনেতারা মনে রেখেছেন, কীভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জেদ এবং ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে হামলা চালানো হয়েছিল। এটি ছিল একটি ব্যয়বহুল ভুল।

আরব সাগরে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষাপ্রধান নিক কার্টার বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ন্যাটোর যোগ দেওয়া অনুচিত হবে। ন্যাটো একটি ‘রক্ষণাত্মক জোট’ হিসেবে তৈরি হয়েছিল। এর প্রতিটি ধারা আত্মরক্ষার জন্যই। এটি এমন কোনো জোট নয় যে একটি দেশ নিজের ইচ্ছায় যুদ্ধে যাবে, আর বাকিদের তা অনুসরণ করতে বাধ্য করবে।

 

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x